সিলেট থেকে লাপাত্তা এডিসি আখতার!

সিলেট থেকে লাপাত্তা এডিসি আখতার!

স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশের এক এডিসি পালিয়ে গেছেন সিলেট থেকে। তার নাম শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। জুলাই-আগষ্ট ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার চানখারপুল এলাকায় গণহত্যায় নেতৃত্ব দানকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সিলেটে বদলি করে পুলিশ সদর দপ্তর। এই কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়েই ১৬ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বিষয়টি। তার অনুপস্থিতির ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে পুলিশ বিভাগে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত তার কর্মস্থল ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সিলেটে কর্মরত ছিলেন এডিশনাল এসপি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। এর পরদিন ২৭ জানুয়ারি সোমবার আর কর্মস্থলে যাননি তিনি। সেই থেকে আজ মঙ্গলবার ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার পর্যন্ত টানা ১৫ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। নগরীর রিকাবীবাজারের সিলেট জেলা পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সিলেট’র কার্যালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই চলে যান কর্মস্থল থেকে তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে এভাবে কাউকে না বলে চলে যাওয়া পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মূলত চানখারপুল গণহত্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশের একাধিক সূত্রের সন্দেহ। পালিয়ে যাওয়া আখতার বর্তমানে সিলেট, ঢাকা, না নিজ বিভাগ রংপুরে রয়েছেন তার কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। এছাড়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ। রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় গণহত্যার নেতৃত্ব দেয়া এই এডিশনাল এসপি আখতার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা জোনের এডিসির দায়িত্বে।

শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম মূলত দেশব্যাপী আলোচিত ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে। ডিবির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রমনা জোনের এডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয় তাকে। তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের একাধিকবারের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফিজের মেয়ের জামাই। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যখন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান তখনও এডিশনাল এসপি আখতারের নেতৃত্বে চলে বর্বর গণহত্যা। চানখারপুল এলাকায় ৫ আগস্ট দুপুর ১১ টার দিকে একে একে ৭ জনকে হত্যা করে পুলিশ। ওই গণহত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সুজন হোসেনকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারী (রোববার) ট্রাইব্যুনাল তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। চানখারপুল গণহত্যার বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে। ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সিলেট’র পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানও এডিশনাল এসপি আখতারের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আখতারুল ইসলাম গত ২৬ জানুয়ারি কর্মস্থলে ছিলেন। এর পরের দিন থেকেই আর কর্মস্থলে আসেননি তিনি। কাউকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এডিশনাল এসপি আখতার ছুটিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি কাটিয়ে আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff